কিছু কিছু ঐতিহাসিক ভুল আছে, যা হয়ে গেলে আর শোধরানো যায় না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিলো তেমন একটি বিষয়। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবনের শেষ জনসভায় উক্তি করেছ...েন:
“ভাইয়েরা-বোনেরা আমার, আমি চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু একটা ওয়াদা আমি রাখতে পারি নাই। জীবনে যে ওয়াদা আমি করেছি, জীবন দিয়ে হলেও সে ওয়াদা আমি পালন করেছি। আমরা সমস্ত দুনিয়ার রাষ্ট্রের সংগে বন্ধুত্ব চাই। আমরা জোটনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাস করি, আমরা কো-একজিস্টেন্সে বিশ্বাস করি। আমরা ভেবেছিলাম, পাকিস্তানীরা নিশ্চয়ই দুঃখিত হবে, আমার সম্পদ ফেরত দেবে। আমি ওয়াদা করেছিলাম, তাদের বিচার করব। এই ওয়াদা আপনাদের পক্ষ থেকে খেলাপ করেছি। তাদের আমি বিচার করিনি। আমি ছেড়ে দিয়েছি এই জন্য যে, এশিয়ায়-দুনিয়ায় আমি বন্ধুত্ব চেয়েছিলাম। দুঃখের বিষয়, পাকিস্তানীরা আমার সম্পদ এক পয়সাও দিল না।”
উনি ক্ষমা করেছেন। সেটা কে ফেরত নিবে? এ দায়িত্ব তার। এখনও যারা বলেন, শেখ সাহেব পাকিস্তানীদের ক্ষমা করেন নাই, তাদের বিচারের বিষয়টা পেন্ডিং, মজিব তাদের ছাড়েন নাই; তাদের মুখের উপর এই লেখাটি ছুড়ে দিন। বলুন, এটা হলো তোদের বাপের নিজের মুখের কথা। বিশ্বাস না হয়, রেডিওতে গিয়া খুজে দেখ আর্কাইভ। তোরা কি শেখ মজিবের চেয়ে বড় হয়ে গেলি নাকি? শেখ সাহেব নিজের মুখে যদি বলে গিয়ে থাকেন পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধীদের তিনি ক্ষমা করে গেছেন, তারপরে ১৯৭৩ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে প্রচারিত শেখ মুজিবের ভাষনে এবং প্রেস নোটে বলা হয়েছিলো, “দলমত নির্বিশেষে সকলেই যাতে আমাদের মহান জাতীয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দেশ গড়ার শপথ নিতে পারে সরকার সেজন্য দালাল আইনে আটক ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন।”
তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচার ডিসমিশ। বাকী রইলো নরহত্যা, নারী ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ অথবা বিস্ফোরকের সাহায্যে ঘরবাড়ি ধ্বংস অথবা জলযান ধ্বংসের অভিযোগে কথা। এসব অপরাধে যদি কাউকে পাওয়া যায়, সেটা জামায়াতের, বিএনপির, বা আওয়ামীলীগের হোক, সুষ্ঠু বিচার করলে জাতি অবশ্যই মেনে নেবে।See more